এটা সংলাপ নয়: ফখরুল

0
2017

ঢাকা অফিসঃ নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপকে ‘সংলাপ’ বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেছেন, এই সংলাপের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই বলেছেন, ‘আমরা তাদের কথা শুনব, আমরা কোন সংলাপ করছি না’। সুতরাং এটাকে সংলাপ বলাই যাবে না। উনি শুনবেন, তারপর উনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। এজন্য আমরা বলে এসেছি প্রধান নির্বাচন কমিশনার দল-নিরপেক্ষ নন। তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সংগঠনটির নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। দলগুলোকে নির্বাচনে আনার দায়িত্ব কমিশনের নয় সিইসির এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ কী? তাদের কাজ কী শুধুমাত্র সরকার যা চাইবে, সেভাবে নির্বাচন করা? সংবিধানে যে কথা বলা আছে, সকল দলের অংশগ্রহনের মাধ্যমে একটা সুন্দর পরিবেশে ভোটারদের ভোট দান নিশ্চিত করতে হবে। এখানে নির্বাচন কমিশনের কোন দায়িত্ব নেই? তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সমস্ত দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসা। এটা আমার কথা নয়, গণমাধ্যমে দেখেন দেশের বিভিন্ন সুধীজন, বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক দলগুলো বলছেন নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। সবাই বলছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ করে বর্তমান সরকারের অধীনে এখানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ এখন একদিকে রায় পরিবর্তনে বিচার বিভাগের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে রায়ের পর্যবেক্ষণের মূল বিষয় থেকে জনদৃষ্টি ফেরাতে জিয়াউর রহমানের শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে আনার কৌশল নিয়েছে। এটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের সহজাত কৌশল। মূল বিষয় থেকে জনমতকে অন্যদিকে নিয়ে যেতেই তারা উল্টো-পাল্টা কথা বলে। মির্জা আলমগীর বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন যদি অবৈধ হয, তা হলে আওয়ামী লীগও অবৈধ। কারণ জিয়া সরকারের সময় তার বিধিমালা অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন করেছিল। তিনি বলেন, রায় পরিবর্তনে সরকার যেভাবে প্রধান বিচারপতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে তাতে সমস্ত দেশ ও জাতি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকার আসলে বিচার বিভাগের যে স্বাধীনতা সেটাকে সম্পূর্ণভাবে ধবংস করতে চায়। রাষ্ট্রের স্তম্ভ গুলোকে ধ্বংস করতে চায়। তারা এদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করে আবার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বন্যায় দুর্গতদের পাশেই দাঁড়াতে আমরাই প্রথম কাজ করছি। কেন্দ্রীয় ত্রান কমিটির মাধ্যমে আমাদের সামর্থ অনুযায়ী দুর্গতদের পাশে যাচ্ছি। সরকার কাজ না করে শুধু মুখের জোরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এটা আমাদের কথা নয়, বন্যার্ত মানুষের কথা। সরকার দুর্যোগ মোকাবেলা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি ত্রান অত্যন্ত অপ্রতুল। এ সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, এবিএম মোশাররফ হোসেন, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম সরোয়ার, ইয়াসিন আলী, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাদরেজ জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এসএম জিলানী, নজরুল ইসলাম, রফিক হাওলাদার, উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, গাজী রেজওয়ান উল হোসেন রিয়াজসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে নেতাকর্মীরা বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

14 + 12 =