এ লজ্জা রাখি কোথায়?

0
2182

মীর মামুন অর রশীদ মামুনঃ পীরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার চাইতে ৩ গুণ বেশী রাজাকার রয়েছে। যাদের ৭১ সালে দাপট ছিল। তারপরও কোন রাজাকারকে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। পাকিস্থানী ও তাদের দোসররা সে সময় বাড়িতে অগ্নি সংযোগ, গুলি করে মানুষও হত্যা করেছিল। বিচারের পরিবর্তে রাজাকারকে ইউপি আ’লীগের সভাপতি করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির আলোকে এএসএম শামছুল আরেফিন কর্তৃক সম্পাদিত রাজাকারদের তালিকা বৃহত্তর রংপুর জেলা, পৃষ্ঠা নং ২৫২-২৬০ পর্যন্ত পৃষ্ঠায় উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নের ৫৬ টি গ্রামে তালিকাভুক্ত ১’শ ৫০ জন রাজাকার রয়েছে। অপরদিকে এ উপজেলায় বর্তমানে তালিকাভুক্ত ৫৩ জন মুক্তিযোদ্ধা আছেন।
চতরা ইউনিয়নের শান্তি কমিটির প্রধান ছিলেন নজের হোসেন খান। তার ভয়ে সন্ধ্যার পরই চতরাহাট জনশুন্য হয়ে যেত বলে জানা যায়। কিছুদিন আগে তিনি মারা গেছেন।
এদিকে উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়ী হাটে ডাকবাংলোয় রাজাকার ক্যাম্পের কমান্ডার ছিলেন চৈত্রকালে ইউনিয়নের জলাইডাঙ্গা গ্রামের আবু জাফর মোঃ জাকারিয়া এবং সেকেন্ড কমান্ডার ছিলেন শাল্টি গ্রামের মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন। উল্লেখিত দু’জন রাজাকারসহ অনেক রাজাকার ডাকবাংলোটিতে যুদ্ধের সময় অবস্থান করতেন । বর্তমানে রাজাকার মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন জীবিত রয়েছে।
রাজাকারের তালিকায় দেখা যায়, উপজেলার ৫৬টি গ্রামে রাজাকার রয়েছে। রাজাকার তালিকার ৫৩ নম্বর রাজাকার মদনখালী ইউনিয়নের জাফরপাড়া গ্রামের আসগর আলীর ছেলে হারুন অর রশিদ ওরফে হারু রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী রাজাসহ (গেজেট নং- ৩৭২, মুক্তিবার্তা নং- ০৩১৩০৬০০২০)।
কয়েকজন উপজেলার খাশালপীরহাটে হাতেনাতে আটক করে বেঁধে মারধর করে। পরবর্তীতে সেই হারু রাজাকারই মদনখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হন।
দুঃখ হ’লো, মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী রাজাকে বাদ দিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচন করেন সেই হারু রাজাকার যা পরবর্তীতে উপজেলা আ’লীগের নেতাদের পূর্ণ সমর্থন ছিলো।
এ লজ্জা রাখি কোথায়?

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × 5 =