চাচা-ভাতিজা মিলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

0
1486

অপরাধ ডেস্ক:
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কালিহাতী উপজেলার গিলাবাড়ি গ্রামের আনছের আলী ওই স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার সময় ঘটনাটি দেখে ফেলে তারই আপন বড় ভাই মুনসব আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম। পরে শরিফুল ঘটনাটি লোকজনের কাছে বলে দেয়ার ভয় দেখিয়ে সেও মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। হত্যার ভয় দেখিয়ে ও কাউকে কিছু না বলতে ওই মেয়েকে নিষেধ করে দেয় আনছের আলী ও শরিফুল। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে চাচা-ভাতিজা প্রায়ই তাকে ধর্ষণ করতো। ধর্ষণের ফলে সে অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর আদালতে আনছের আলী ও শরিফুলের নাম উল্লেখ করে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে ওই স্কুলছাত্রী। এদিকে আজ সকালে শরিফুলকে আটক করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ। তবে ঢাকায় অবস্থান করায় ঘটনার মূলহোতা আনছের আলীকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সরজমিনে জানা যায়, ওই গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে ভূঞাপুরের নিকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী একই গ্রামের সাবেক সরকারি কর্মকর্তা আনছের আলীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতো। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় ওই ছাত্রী পড়াশোনার ফাঁকে আনছের আলীর বাড়িতে কাজ করে দিতো। বিনিময়ে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার খেতো। আনছের আলীর স্ত্রী বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করায় ওই বাড়িতে একাই থাকতো সে। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর উপর কুনজর পরে ৬০ বছরের আনছের আলীর। একদিন মেয়েটিকে একা পেয়ে আনছের আলী ধর্ষণ করার সময় তারই বড় ভাই মুনসবের ছেলে শরিফুল ঘটনাটি দেখে ফেলে। পরে শরিফুল ঘটনাটি লোকজনের কাছে বলে দেয়ার ভয় দেখিয়ে সেও মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। কাউকে কিছু বললে হত্যার ভয় দেখিয়ে মাঝে মধ্যেই চাচা আনছের আলী ও ভাতিজা শরিফুল মেয়েটিকে ধর্ষণ করতো। ফলে নিজের অজান্তেই কিশোরী অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে। কিছুদিন আগে মেয়েটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখতে পায় পরিবারের লোকজন। জিজ্ঞসাবাদে সে সব কিছু খুলে বলে। পরে ডাক্তারি পরীায় অন্তঃসত্বার বিষয়টি ধরা পড়ে। বিষয়টি আনছের আলী জানার পর মেয়ের পরিবারকে কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি দেয়। এ নিয়ে মেয়ের পিতা মেয়েকে নিয়ে আনছের আলীর বাড়িতে গেলে সে কয়েক দফা তাদের মারধর করে। আনছের আলী প্রভাবশালী হওয়ায় নীরবে সহ্য করে চলে আসে মেয়ে ও তার বাবা। এরই মধ্যে গর্ভপাত করানোর জন্য মেয়ের পরিবারকে চাপ দেয় আনছের আলী। এরই ধারাবাহিকতায় মেয়েটিকে টাঙ্গাইল মুন নার্সিং হোমে গর্ভপাত করানোর জন্য ভর্তি করা হয়। কিন্তু ৭ মাসের অন্তঃসত্তা হওয়ায় গাইনী ডাক্তার মালেকা শফি মঞ্জু তা করতে অস্বীকৃতি জানায়।

এ ঘটনায় মেয়ের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে আনছের আলীর বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতে ওই ছাত্রী আনছের আলী ও শরিফুলের নাম উল্লেখ করে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে শরিফুলকে আটক করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে কালিহাতী থানা অফিসার ইনচার্জ মীর মোসারফ হোসেন বলেন, আদালতে মেয়েটির ২২ ধারার জবানবন্দিতে আনছের আলী ও শরিফুলের নাম উঠে আসে। শরিফুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। আনছের আলীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × two =