জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আদিতমারীতে শিক্ষকের জিডি

0
2047

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনসুর আলী ও তার দুই ছেলের হুমকিতে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন সারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ ব্যাপারে সারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তালেব বাদশা মিয়া জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সম্প্রতি স্থানীয় থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেছেন। যার জিডি নং-৩৭২।

অভিযুক্ত তিনজন হলেন, উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারী মনসুর আলী (৬৫) ও তার দুই ছেলে স্বপন মিয়া (২৬) এবং রিপন মিয়া (৩০)।

থানা পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই সারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য বিধি মোতাবেক এডহক কমিটি গঠন করা হয়। এডহক কমিটিতে সারপুকুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনসুর আলী সভাপতি হিসেবে কমিটিতে আসতে না পারায় প্রধান শিক্ষকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এ ঘটনার জের ধরে গত ১৬ জুলাই তিনি ও তার দুই ছেলেসহ অজ্ঞাত আরও ৮/১০ জন লোক বিদ্যালয় চলাকালীন অবস্থায় অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন। বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য এডহক কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে চাপ প্রয়োগ করেন তিনি ও তার লোকজন। এক পর্যায়ে তারা প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের মারপিট করার জন্য চড়াও হয়। এসময়য় বিদ্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করে বলেন, এডহক কমিটি ভেঙ্গে না দিলে প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকদের রাস্তায় সুযোগমত মারপিট করা ছাড়াও জোর পূর্বক প্রধান শিক্ষকের ইস্তফা পত্রে স্বাক্ষর গ্রহণ করা হবে। প্রভাবশালী এ চক্রটির হুমকির কারণে গত ১৫ দিন যাবত বিদ্যালয়ে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আবু তালেব বাদশা মিয়া। আর এ কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ও প্রধান শিক্ষকের উপর বেআইনী চাপ সৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য গত বুধবার ইউএনও আসাদুজ্জামান বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

ইউএনও আসাদুজ্জামান ছাত্রদের পক্ষ থেকে এধরনের একটি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের করা হবে।

এ প্রসঙ্গে সারপুকুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনসুর আলী বলেন, দীর্ঘ ১৩ বছর যাবত এডহক কমিটির মাধমে ৪ জন শিক্ষক ও একজন লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ দিয়ে প্রধান শিক্ষক ৪৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম করেছেন। অনিয়ম থেকে নিজেকে রক্ষার জন্যই প্রধান শিক্ষক আমাকে ও আমার ছেলেদের বিরুদ্ধে জিডি করেছেন।

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজার রহমান প্রধান শিক্ষকের জিডি দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × three =