ডিভাইস খুঁজে দেবে চোরাই গাড়ি

0
2223

প্রযুক্তি ডেস্কঃ কামরুল সাহেব অটোরিকশার ব্যবসার করেন। বর্তমানে তাঁর গ্যারেজে অটোরিকশার সংখ্যা ২৫টি। তবে মাঝেমধ্যেই অটোরিকশাগুলো চুরি অথবা ছিনতাইয়ের শিকার হয়।

কখনো কখনো মুক্তিপণ দিয়ে অটোরিকশাগুলো ফেরত পাওয়া গেলেও অধিকাংশ সময়েই সেগুলো আর ফিরে পাওয়া যেত না। মে মাসের দিকে তিনি কামরুল সাহেবের সব অটোরিকশাতে জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস ইন্সট্রল করেন। এর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পেতে শুরু করেন এর সুফল।

জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এই ব্যবসায়ীর তিনটি অটোরিকশা চুরি হয়। তবে এবার আর কোনো রকম মুক্তিপণ দিতে হয়নি। কেবল জিপিএস ট্রাকিং এর মাধ্যমেই তিনি সব অটোরিকশা উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

অন্যদিকে শাফিনুর আজনান সাহেবের গল্পটা ভিন্ন। ড্রাইভার প্রায়ই গ্যাস আনতে গিয়ে বিশাল লাইনের অজুহাত দেখায়। একদিন রাতে ড্রাইভার জানালেন তিনি গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে শাফিনুর সাহেব গাড়ির লোকেশন ট্র্যাক করে দেখলেন এয়ারপোর্ট সিগন্যালে দাঁড়িয়ে আছে তার গাড়ি। যেখানে তার জানামতে কোনো সিএনজি স্টেশন নেই। সন্দেহ হওয়ায় ভয়েস ট্রাকিং অপশনের মাধ্যমে কল করলেন গাড়িতে আর ড্রাইভারের গলার আওয়াজে শুনতে পেলেন মহাখালি ২০ টাকা, মহাখালি ২০ টাকা। বুঝতে আর কিছুই বাকি রইল না শাফিনুর সাহেবের।

এভাবেই ফাইন্ডার ট্র্যাকিং সার্ভিস কাজ করে যাচ্ছে ২০০৯ সাল থেকে। এই সেবা পেতে একটি ট্র্যাকিং ডিভাইস ইন্সট্রল করতে হয়। ডিভাইসটিতে একটি মোবাইল সিম থাকে, যা জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনের তাৎক্ষনিক অবস্থান আপডেট দিতে থাকে ফাইন্ডার সার্ভারে। ব্যবহারকারীরা ফাইন্ডার ওয়েবসাইট (www.finder-lbs.com) অথবা মোবাইল অ্যাপস থেকে তাঁর গাড়ির অবস্থান, গতি, অতিক্রান্ত দুরত্বসহ আরো নানা ধরনের তথ্য জানতে থাকেন।

শুধু তাই না, দিনের যেকোনো সময় কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে টেলিফোন করে পুশ পুল এসএমএসের মাধ্যমেও পাওয়া যায় এসব সেবা। যেকোনো ধরনের গাড়ির পাশাপাশি মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা এমনকি নৌযানেও ব্যবহার করা যায় এই ডিভাইস।

চোরাই গাড়ি উদ্ধার ছাড়াও এই ট্র্যাকিং সার্ভিস গাড়ির নিরাপত্তা ও সঠিক ব্যবস্থপনা নিশ্চিত করে। এই সাভির্সের মাধ্যমে ব্যবহারকারী খুব সহজেই ড্রাইভারের সারাদিনের কার্যক্রম, সর্বোচ্চ অতিক্রান্ত দূরত্ব দেখতে পারবেন। এমনকি ইচ্ছে হলে গাড়ির ভিতরের কথাবার্তাও শুনতে পারবেন। এ ছাড়া এতে আছে জিও-ফেন্স সুবিধা যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় (যা ব্যবহারকারী নিজেই এঁকে দিতে পারেন।) ঢুকলে বা বের হলে সাথে সাথে নোটিফিকেশন চলে যাবে ব্যবহারকারীর কাছে।

আফটার সেলস সার্ভিস এই সেবার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আর এই সেবা নিশ্চিত করতে ফাইন্ডারের ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও যশোরেও রয়েছে নিজস্ব অফিস। এ ছাড়া মোবাইল টেকনেশিয়ান টিম আছে সারা দেশে সার্ভিস দেওয়ার জন্য।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × 2 =