তারেক জিয়াকে নিয়ে গ্রেনেড ফাটালেন. ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী

0
3702

আমাদের পীরগঞ্জ ডেস্কঃ আমলা হলেও গবেষণা তাঁর প্রিয় বিষয়। একজন মেধাবী অর্থনীতিবিদ। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর রয়েছে একাধিক প্রকাশনা।

এসবের অধিকাংশই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। আওয়ামী লীগ বিরোধীতার জন্যই বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠ হন।

১৯৯১-৯৬ সালে বিএনপি সরকারের নীতি নির্ধারক আমলা ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী কিছুদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তারপর প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বেগম জিয়ার সঙ্গে তাঁর নৈকট্য থাকলেও তারেক জিয়ার সঙ্গে ছিল তাঁর বিস্তর দূরত্ব।

ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এখন মালয়েশিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। অনেকেই তাঁর কাছে জানতে চান, বিএনপির এই অবস্থার জন্য দায়ী কে?

তাদের ড. সিদ্দিকী বলেছেন, ‘তারেক জিয়া।‘ ঘনিষ্ঠদের ২০০১-২০০৬ সালের শাসনকালের স্মৃতি চারণ করে বলেছেন, ‘ তারেক বিএনপিকে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিল। সরকার বা দেশ নয়, তারেকের একমাত্র লক্ষ্য ছিল টাকা বানানো ‘

একবার নয় একাধিকবার তারেককে এসব ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী। জবাবে তারেক বলেছেন, ‘আমি বিল গেটসের চেয়েও ধনী হব। দেখবেন তখন আপনার এসব পরামর্শের জবাব দেব।’ তারেক সব সময় বলতো, ‘টাকা হলে সব কিছুই করা যায়, তাই দরকার টাকা।’

ড. সিদ্দিকী তারেককে বলেছিলেন, ‘এত টাকা দিয়ে কী করবে?’ তারেকের জবাব ছিল স্পষ্ট; ‘প্রথমত, আওয়ামী লীগ নামে কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না।

বিএনপি চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকবে।’ আদর্শ ছাড়া টাকা দিয়ে এটা কীভাবে সম্ভব? এর উত্তরও তারেকের ছিল সোজাসাপ্টা, ‘বাংলাদেশে কারও কোনো আদর্শ নেই।

এখানে টাকা যার আদর্শ তার। টাকাই হলো সবচেয়ে বড় আদর্শ।’ ড. কামাল সিদ্দিকী তারেককে সতর্ক করেছিল যে, এই টাকাই তোমাকে ধ্বংস করবে।’ ঘনিষ্ঠদের তিনি তারেক জিয়ার দুর্নীতির বেশ কিছু ঘটনা স্মৃতিচারণ করেছেন।

টঙ্গীতে লিরা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান পিভিসি পাইপ উৎপাদন করতো। ১০ বিঘা জমির ওপর এই প্রতিষ্ঠানটি ছিল।

তারেকের নির্দেশে ওই প্রতিষ্ঠানের জমিটি বিক্রি করা হয় মাত্র দুই কোটি ৮০ লাখ টাকায়। অথচ ওই সময় টঙ্গীতে এক বিঘা জমিরই দাম ছিল এক কোটি টাকা। অর্থাৎ, শুধু জমির দামই হয় ১৮ কোটি টাকা। মেশিনপত্রের কথা বাদই থাকল।

কে এস আলমগীর নামে একজনের কাছে এই মিলটি পানির দামে বিক্রি করা হয়। এরকম বহু রাষ্ট্রয়াত্ত কারখানা, মিল বন্ধ করে দিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

ড. কামাল সিদ্দিকী বিষয়টি বেগম জিয়ার কানে আনলে, বেগম জিয়া ড. কামাল সিদ্দিকীকে এসব বিষয়ে নাক না গলাতে নির্দেশ দেন।

সে সেময় ড. কামাল সিদ্দিকী বেগম জিয়াকে বলেছিলেন, ‘আপনার দুর্নীতির যেমন আমি ভাগিদার না, তেমনি আপনার দুর্নীতির মামলারও পার্টনার হতে চাই না।’ ড. কামাল সিদ্দিকী এখনো মনে করেন, ‘তারেককে দিয়ে কোনো রাজনীতি হবে না, হবে অনৈতিক ব্যবসা।’ সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × 4 =