নতুন গ্রেডে উন্নীত হচ্ছেন প্রাথমিকের শিক্ষক-কর্মকর্তারা

0
991

ঢাকা অফিসঃ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা নতুন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির প্রস্তাবনাও রয়েছে। এ পদ সৃষ্টির পর সারাদেশে প্রায় ৬৫ হাজার সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর তাদের বেতনস্কেল বৈষম্য দূরীকরণে এসব বিষয়ে ইতিমধ্যে ‘শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা’ চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আগামী এক মাসের মধ্যে গ্রেড পরিবর্তনের নির্দেশনা জারি করা হতে পারে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির হলেও তারা বেতন পান ১১তম গ্রেডে। অথচ দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সব চাকরিজীবী ১০ম গ্রেডে বেতন পান। যে কারণে প্রধান শিক্ষকদের একাধিক সংগঠন ১০ম গ্রেডে বেতনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।

একাধিকবার আন্দোলন করেছেন সহকারী শিক্ষকরাও। বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে বেতন পান। ফলে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের বেতনের পার্থক্য তিন ধাপ। কোনোভাবেই সেটি মেনে নিতে রাজি নন সহকারী শিক্ষকরা। তারা প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচে বেতন চান।

শিক্ষকদের এসব দাবির প্রেক্ষিতে কয়েক দফায় শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বৈঠকের পর যে সিদ্ধান্তে মন্ত্রণালয় পৌঁছেছে তা হলো – সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১২তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষক পদ ১০তম গ্রেড, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ৯ম গ্রেড ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ৭তম গ্রেডে উন্নীত করা হবে।

গত দুই মাস আগে এ প্রস্তাব জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র।

জানা গেছে, শিক্ষক-কর্মকর্তারা যোগদানের পরই উল্লিখিত গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হবেন। তবে যোগদানের পর শিক্ষকরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলে তাদের গ্রেড পরিবর্তন না করে বাড়তি ভাতা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নতুন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করতে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেড, প্রধান শিক্ষকদের ১০তম গ্রেড, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ৯তম গ্রেড ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের ৭ম গ্রেডে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, প্রস্তাবটির ভাষাগত সংশোধনের জন্য এখন এটিকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে বিজি প্রেসে দেওয়া হবে।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটির গেজেট প্রকাশ হবে। তাই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের গ্রেড পরিবর্তনের কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে আর কোনো বাধা রইল না।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ বিধিমালার অনুমোদন করেন রাষ্ট্রপতি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 + eighteen =