নারীর সমান অধিকার এখন প্রতিষ্ঠিত, দাবি খাদ্যমন্ত্রীর

0
1507

ঢাকা অফিসঃ মঙ্গলবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে নারী ও কন্যা শিশুদের খাদ্য অধিকার নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর এই বক্তব্য আসে।

কামরুল বলেন, “আপনারা নারীর সমান অধিকারের জন্য আন্দোলন করেছেন, কিন্তু এখন নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত। এখন আর বলতে হবে না যে, সমান অধিকার নাই।”

বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে অনেক এগোলেও এখনও সব স্তরে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে নারী অধিকার সংগঠনগুলো তার দাবি জানিয়ে আসছে।

পাশাপাশি নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপের আন্তর্জাতিক সনদ সিডও সনদের দুটি ধারায় বাংলাদেশ আপত্তি এখনও তুলে নেয়নি; ফলে সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার এখনও প্রতিষ্ঠিত নয়।

এই বিষয়গুলো সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না করে সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল বলেন, নারী, শিশু ও পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে নেই। সব ক্ষেত্রে নারীরা ‘সমান সুযোগ’ পাচ্ছে।

“নারীদের প্রতি যে বৈষম্য ছিল, শিশুদের প্রতি যে বৈষম্য ছিল, সেই বৈষম্য কিন্তু এখন নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন, সেভাবে কাজ করলে আগামী ৫ বছর পরে দেখবেন এই বৈষম্যগুলো ১ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নেমে এসেছে- আমি এটা নিশ্চিত করতে পারি।”

দেশে দারিদ্র্যের হার কমে আসার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখন মানুষের মনে হাহাকার নাই, অভাবটা নাই। ১০ বছর আগে যে অবস্থাটা ছিল, সেটা এখন নাই।”

নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্যের পুষ্টিমান সম্পর্কে প্রতিটি স্তরে সবাইকে সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানান খাদ্যমন্ত্রী।

ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহায়তায় খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ আয়োজিত এই আলোচনা অনুষ্ঠানে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের আবাসিক পরিচালক ফারাহ কবীর বলেন, “নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য নিরসন ও মানসিকতা পরিবর্তন করতে না পারলে সমাজে খাদ্য নিরাপত্তা অনিশ্চিত থেকে যাবে।”

ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের আবাসিক পরিচালক সাকেব নবী বলেন, একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য মা ও কন্যাশিশুদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ সচিবালয়ের সমন্বয়কারী কানিজ ফাতেমা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী।

খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এন্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুল করীম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী রওশন আক্তার।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

13 − 1 =