পীরগঞ্জের নির্বাচনী হালচাল!

0
1124

মীর মামুনঃ
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে রংপুরের পীরগঞ্জ-৬ আসনটি অত্যান্ত গুরুত্বপূন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনবার ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দুইবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন রংপুর-৬ আসন থেকে। সে কারনে নির্বাচনে এ আসনটি ভি আইপি আসন হিসেবে পরিচিত ।

একসময় জাতীয় পাটির দুর্গও বলা হতো এ আসনকে। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে এখানে নৌকার হাল ধরে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরু করণ সৃষ্টি করেন। প্রধানমন্ত্রী এই আসনটি ছেড়ে দিয়ে ২০০৮ সালে উপনির্বাচনে শিল্পপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদকে নৌকা প্রতিকে মনোয়ন দিলে তিনি ধানের শীর্ষ প্রতিক নূর মোহাম্মদ মন্ডলকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালে উপনির্বাচনে জাতীয় সংসদের স্পীকার ড.শিরিন শারমিন চৌধূরীকে মনোয়ন দিলে তিনি বিনা- প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। তারপর তিনি জাতীয় সংসদের স্পীকার নির্বাচিত হন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষনার পর এ আসন থেকে ভোটে অংশ গ্রহনের উদ্দেশে আওয়ামীলীগ দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধূরী, সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, বিএনপি থেকে রংপুর জেলার সভাপতি সাইফুল ইসলাম, তারেক রহমান পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, জাতীয় পাটি থেকে উপজেলা সাধারন সম্পাদক নুরে-আলম যাদু , কমিউনিষ্ট পাটির (সিপিবি) উপজেলা সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক কামরুজ্জামান, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা বেলাল হোসেনসহ বেশ কয়েক জন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনায়ন সংগ্রহ করেছেন।

একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত পীরগঞ্জ আসনটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেত্বেতের দিক থেকে ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান খুবই সুদৃঢ়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকেই, প্রার্থী হিসেবে পেতে চাইছেন।

তাদের কেউই এখান থেকে নির্বাচনে অংশ না নিলে স্থানীয় কোনো প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনে যেতে আগ্রহী তারা। তবে আওয়ামীলীগ জাতীয় পাটির মহাজোটের সমিকরণেও যদি জাতীয় পাটির কাউকে মনোনায়ন দেয়া হয় তাকে ছাড় দিতে নারজ স্থানীয়রা। অন্য কোনো দলের প্রার্থীর মনোনয়ন মেনে নিতে রাজি নন তারা।

সব মিলিয়ে এ আসনে রয়েছে নৌকার সম্ভাবনা। জর্জরিত বিএনপি এখানে কোনো সুবিধাজনক অবস্থানে নেই বললেই চলে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ মন্ডল বিএনপিতে থাকলেও সম্প্রতি তিনি আওয়ামীলীগে যোগদান করায় ভোটের হিসাব নিকাশ পাল্টে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর এ নির্বাচনী এলাকায় তিনি ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী নির্বাচনে এ এলাকার মানুষ নৌকাকেই জয়ী করবে। এ আসনে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রার্থী হলে স্থানীয় ভোটাররা খুবই খুশি হবেন ।

কে এ আসনের হাল ধরবেন ? সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তাজিমুল ইসলাম শামীম এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান রাঙ্গার মতে, এ আসনের মনোনয়ন সম্পর্কে দলের সভাপতিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

তারপরও যদি নেত্রী নির্বাচনে আসেন তাহলে এলাকার মানুষ খুশি হবে কারণ এ এলাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।

এখন এই এলাকার ভোটারগন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পীরগঞ্জের পুত্র বধু শেখ হাসিনাকেই চাচ্ছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen + six =