প্রধান বিচারপতি পদত্যাগে বাধ্য হলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে: মোশাররফ

0
2040

ঢাকা অফিসঃ প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে ক্ষমতাসীনরা দেশের বিচার বিভাগকে ধ্বংস করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

শনিবার দুপুরে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আমরা দেখছি যে, রাস্তায় মানববন্ধন করা হচ্ছে। দাবি কী? প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে হবে। বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চাওয়া হয়েছে।”

চাপে পড়ে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ ‘দেশ ধ্বংস হওয়ার সমান’ বলছেন খন্দকার মোশাররফ।

“আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সরকারের চাপে কিংবা একটি দলের চাপে পড়ে যদি প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে হয়, তাহলে রাষ্ট্রের যে তৃতীয় স্তম্ভ… অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য স্তম্ভ- এই বিচার বিভাগ ধ্বংস হয়ে যাবে। বিচার বিভাগ ধ্বংস হয়ে যাওয়া… তার অর্থ হচ্ছে দেশ ধ্বংস হয়ে যাওয়া।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “আমরা মনে করি যে, বিচারালয়কে স্বাধীন রেখে দেশকে অগ্রসর করতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষের শেষ আশা ভরসার স্থল বিচার বিভাগ… সেটিও সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

“সরকারকে বলব, আজকে রাস্তায় আপনারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চাচ্ছেন। সময় বেশি দূরে নয়, এদেশের জনগণ আপনাদেরই পদত্যাগ চাইবে। সেই সংগ্রাম, সেই আন্দোলন বেশি দূরে নয়।”

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে রেখে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে ‘অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর’ কথা এসেছে অভিযোগ করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরোধিতা করে আসছে ক্ষমতাসীনরা।

রায়ের পর্যবেক্ষণে সংসদ ও সাংসদদের সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্যের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বকে অস্বীকার করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের। এজন্য প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে বাক-আক্রমণ করার পাশাপাশি তার পদত্যাগও দাবি করে আসছেন ক্ষমতাসীনরা।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে সরকার ‘আদালত অবমাননা’ করছে বলে ভাষ্য বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফের।

“সর্বোচ্চ আদালতের কোনো রায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে বলা হয় আদালত অবমাননা। আজকে সরকার আদালত অবমাননা করছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি বিচারপতি খায়রুল হক করছেন, মন্ত্রীরা করছেন। রাস্তায় মানুষ নামিয়ে দিয়ে তারা আদালত অবমাননা করছে।

“এটা কখনো কেনো দেশের জন্য কাঙ্ক্ষিত নয়, এটা অশনি সংকেত। যেভাবে আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দিয়ে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের মুখোমুখি করে দিয়েছেন, এটা কখনো দেশের জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে না।”

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি অশ্রদ্ধার জন্য একদিন আওয়ামী লীগকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, “রায়ে যে অবজারভেশন দেওয়া হয়েছে, এগুলো মানা এই সরকারের নৈতিক দায়িত্ব; যা আপনারা এখন পর্যন্ত অমান্য করছেন। আমি বিশ্বাস করি, এই অন্যায় করার জন্য, সংবিধানকে অশ্রদ্ধা করার জন্য, গণতন্ত্রকে অশ্রদ্ধা করার জন্য, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগকের রায়কে অশ্রদ্ধা করার জন্য জনগণের আদালতের একদিন আপনাদের বিচার হবে।”

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’ শিরোনামে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল।

এতে বর্তমান সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী’ আখ্যায়িত করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, “তারা যে বাড়াবাড়ি করেছে, তার প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে হবে এবং তার খেসারত তাদের দিতে হবে। রাজনীতিতে কেউ যদি ভুল করে, তার খেসারত দিতে হয়; রাজনীতিতে মাফ বলে কথা নেই।”

তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্র আজ আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দি। এই গণতন্ত্রকে অতীতে বাকশাল সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ হত্যা করেছিল। এই গণতন্ত্রকে হত্যা করার জন্য এখন তারা ষড়যন্ত্র করছে।

“২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আগামী নির্বাচনেও একটা নাটক করে ভোট বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে আবার তারা ক্ষমতায় যাওয়ার পায়তারা করছে। আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন আর হবে না, হতে দেওয়া হবে না।”

জাতীয়তাবাদী নাগরিক দলের সভাপতি সৈয়দ মো. ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে ও মঞ্জুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সুকোমল বড়ুয়া, সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আবদুল গফুর, আতাউর রহমান আঙ্গুর, কেন্দ্রীয় নেতা খালেদা ইয়াসমীন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এবং আইনজীবী জিয়াউদ্দিন জিয়া বক্তব্য রাখেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty − 19 =