‘প্লিজ কাউকে ধাক্কা দেবেন না’

0
1371

ঢাকা অফিস:
প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বাংলাদেশে আসার খবরটি জানতো না কেউই। গণমাধ্যমেও বিষয়টি আসেনি আগে। রোববার (২১ মে) রাতে হুট করেই প্রিয়াঙ্কার ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশে আসছেন এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন।

ব্যাস, মুহূর্তেই এই খবর ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সংবাদ মাধ্যমগুলোতেও খবর প্রকাশ হয় প্রিয়াঙ্কার আগমনের বিষয়টি নিয়ে। সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ প্রিয়াঙ্কা ঢাকায় আসেন। এরপর ঘন্টা তিনেক বিশ্রাম নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে পৌঁছেন দুপুর নাগাদ। এরপর বেলা সাড়ে ৩টা নাগাদ টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর মনাখালি ব্রিজের পাশে অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান প্রিয়াঙ্কা।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রিয়াঙ্কা

প্রিয়াঙ্কার আসার কথা শুনে জড়ো হয় শত শত মানুষ। রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় অন্যান্য মানুষজনও এই বলিউড তারকাকে এক পলক চোখে দেখার জন্য ছুটে আসেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা ভিড় কমাতে মানুষদের ধাক্কা দেয়া ও লাঠিপেটা করেন। বিষয়টি সহজে মেনে নেননি প্রিয়াঙ্কা। স্পষ্টভাবে পুলিশকে বললেন, ‘প্লিজ, কাউকে ধাক্কা দেবেন না। এভাবে সরাবেন না’।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা একটি রোহিঙ্গা শিশুকে বাংলায় জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমাদের এখানে আমাকে ঘোরাবে?’ শিশুটি সম্মতি জানালে প্রিয়াঙ্কা তার হাত ধরেই এগুতে থাকেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রিয়াঙ্কা

এ সময় প্রিয়াঙ্কার পরনে ছিলো কালো জিন্স প্যান্ট ও ইউনিসেফের সাদা টি-শার্ট, মাথায় ছিলো ওড়না। প্রিয়াঙ্কা আরো কয়েকটি রোহিঙ্গা শিশুর সঙ্গেও কথা বলেন। তাদের পড়ালেখা ও অন্যান্য বিষয়ে জানতে চান। এরপর তিনি যান রোহিঙ্গাদের জন্য পরিচালিত ইউনিসেফের হাসপাতালে।

বিকাল ৪টা ১০ মিনিট নাগাদ প্রিয়াঙ্কা টেকনাফের এই রোহিঙ্গা ক্যাম্প ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় হাত নেড়ে বলে যান, তিনি আবারো আসবেন।

জানা গেছে, প্রিয়াঙ্কা উঠেছেন উখিয়ার রয়েল টিউলিফ হোটেলে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক তহবিলের (ইউনিসেফ) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তার এই সফর চার দিনের। আগামী দুই দিনও তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করবেন। ২৪ মে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

10 + four =