বদরগঞ্জে চেয়ারম্যান-মেম্বারের উপস্থিতিতে সালিস বৈঠকে প্রভাবশালীদের হামলায় আহত পাঁচ॥ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বসতঘর॥ থানায় অভিযোগ॥

0
1973

বদরগঞ্জ(রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের বদরগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারের উপস্থিতিতে সালিস বৈঠকে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে নারী-পুরুষসহ পাঁচজনকে পিটিয়ে আহত করেছে। এছাড়া পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বসতঘর। আহতরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত মঙ্গলবার(৫সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের সোনারপাড়ায় এঘটনা ঘটে। এঘটনায় বদরগঞ্জ থানায় ১২জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ হয়েছে।
জানা যায়, ওই এলাকার তমেজ উদ্দিনের মেয়ে তহমিনা নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে সন্তান থাকার পরও স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য হন। এরপর তিনি সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। তহমিনা জীবন বাঁচাতে নীলফামারির সৈয়দপুর থেকে কনফেকশনারীর মালামাল নিয়ে এসে তা’ বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করতে থাকেন। এরই সুত্র ধরে পরিচয় ঘটে কনফেকশনারী শ্রমিক সুজনের সাথে। এরপর তাদের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হয় এবং দু’জনই বিয়ে করতে সম্মত হন। একারণে সুজন সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তহমিনাকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে আবার সন্তানও জন্ম নেয়। এসব ১৭বছর আগের কাহিনী হলেও এটা মানতে পারেননি এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল। ওই মহলটি নানা ছুতোয় সুজনকে হুমকি দিতে থাকে। তাদের দাবী- সুজন মুসলমান হয়নি এবং তহমিনাকে বিয়েও করেনি। তাদের ঘরে যে সন্তান রয়েছে সেই সন্তানও অবৈধ। এ অবস্থায় ওইদিন সকালে তহমিনা ইউপি চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হন। বিষয়টি নিরসনের লক্ষ্যে ইউপি চেয়ারম্যান সোনারপাড়ার আব্দুল হাইয়ের উঠানে একটি সালিস বৈঠক ডাকেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে এলাকার লোকজনের পাশাপাশি বর্তমান ইউপি মেম্বার সাইদুল হক ও আইতুল হক এবং সাবেক ইউপি মেম্বার আবু বক্করও সেখানে উপস্থিত হন। যথারীতি মেখানে সালিস বৈঠকও শুরু হয়। কিন্তু এরই মাঝে এলাকার প্রভাবশালী রাশেদুলের নেতৃত্বে ১২জনের একটি গ্রুপ লাঠি নিয়ে বৈঠক স্থলে হামলা চালিয়ে তহমিনাকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। তাকে রক্ষায় স্বামী সুজন, ছেলে রাসেল, সোহেল, মেয়ে আইরিন এগিয়ে আসলে তারাও লাঠিপেটার শিকার হন। লাঠির আঘাতে সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়লে লাঠিয়ালরা তহমিনার বাড়িতে যায় এবং ঘরে আগুণ ধরিয়ে দেয়। আর এসবই ঘটে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের উপস্থিতিতে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান ছাখাওয়াত হোসেন হীরা বলেন, তহমিনার বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। তার কর্মকা-ে এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার উপস্থিতিতে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। একারণে আমি নিজেই পুলিশকে ডেকেছি এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি।
তবে তার কথার তীব্র প্রতিবাদ করে ইউপি মেম্বার সাইদুল হক বলেন, তহমিনা খুবই নীরিহ প্রকৃতির। তারপরও চেয়ারম্যান সাহেব কেন এমন মন্তব্য করলেন তা বোধগম্য নয়।
এদিকে তহমিনার স্বামী সুজন বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় রাশেদুলসহ ১২জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এব্যাপারে বদরগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করা হলে ওসি আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে। এর বেশি বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

16 − 16 =