বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখন তারেক রহমান

0
1572

ঢাকা নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ায় চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে বিএনপি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখন তারেক রহমান; যদিও তিনিও নেই দেশে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার আদালত জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ডের রায় দেওয়ার পর তাকে বন্দি করা হয়। তাকে রাখা হয়েছে নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগারে।

দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় রায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিকালে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে অন্য নেতাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রায়ের প্রতিক্রিয়া জানানোর পর এক সাংবাদিক ফখরুলের কাছে প্রশ্ন রাখেন, এখন বিএনপি কীভাবে চলবে? খালেদা জিয়া কি দল পরিচালনায় কোনো নির্দেশনা দিয়ে গেছেন?

উত্তরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের গঠনতন্ত্রের দল পরিচালনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। সুতরাং সেই অনুযায়ী দল চলবে।

“এ নিয়ে আপনাদের (সাংবাদিক) মাথা ব্যথার কোনো কারণ নেই। দল তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”

গঠনতন্ত্রে কী আছে- প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গঠনতন্ত্র আপনি পড়ে নিন।”

বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, “দলের গঠনতন্ত্রে আছে, চেয়ারপারসন কেনো কারণে সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকলে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন। এটাই গঠনতন্ত্রের বিধান।”

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৮ ধারায় রয়েছে, চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান।

জাতীয় কাউন্সিলে গঠনতন্ত্রে সংশোধন এনে তারেকের জন্য জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যানের পদটি সৃষ্টি করা হয়। তবে তিনি তার আগে থেকেই রয়েছেন বিদেশে; দুটি মামলায় দণ্ডিত তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, “যেহেতু সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দেশের বাইরে আছেন, তার সাথে আলাপ করেই স্থায়ী কমিটি কাজ করবে।”

জরুরি অবস্থার সময় খালেদা জিয়া বন্দি হওয়ার পর সংস্কারপন্থি বলে পরিচিত নেতারা এম সাইফুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছিলেন। পরে অবশ্য তারা হালে পানি পাননি।

এবার রায়ের আগে খালেদা জিয়া সেই ধরনের কোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে যান।

খালেদার মামলায় রায়ের আগে সম্প্রতি বিএনপি গঠনতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বিএনপি বিষয়টি ইসিকে জানালেও নিজেরা তা খোলসা করেনি।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেছেন, বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্রে সপ্তম ধারাটি বাদ দিয়েছে।

এই ধারায় রয়েছে, দণ্ডিত ব্যক্তি বিএনপির কোনো নেতা হতে পারবে না, সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাবে না, এমপি হতে পারবে না; কেউ যদি দুর্নীতিবাজ হয় তাহলে বিএনপির সদস্য হতে পারবে না।

ওবায়দুল কাদের বলছেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতিবাজ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছেন বলে আঁচ পেয়ে বিএনপি তড়িঘড়ি করে গঠনতন্ত্রে সংশোধন এনেছে।

বিএনপির ওয়েবসাইটে এখন দেওয়া গঠনতন্ত্রে ৭ ধারায় সদস্য পদ লাভের অযোগ্যতা হিসেবে লেখা আছে, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৮ (দালাল আইন) এ দণ্ডিত ব্যক্তি; দেউলিয়া; উন্মাদ; সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ ও কুখ্যাত হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

16 + five =