ভোটের রাজনীতি, জোটের রাজনীতি

0
2667

মেতে উঠেছে ভোটের রাজনীতি। বিশেষত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ হাসিনা যখন সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বললেন তখন থেকেই বড়-ছোট সব দলের চিন্তায় কেবলই নির্বাচন। জোটের রাজনীতিতেও লেগেছে নতুন হাওয়া। দেশে দু’টি বড় রাজনৈতিক জোট থাকতেও তৃতীয় জোটের সম্ভাবনা নিয়ে ছোট দলগুলোর দৌড়ঝাঁপ আর লম্ফঝম্প চোখে পড়ার মতো। তবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি’র বাইরে রাজনৈতিক তৃতীয় জোট বা তৃতীয় শক্তি কতটা সুফল, সফল হয় তা দেখার বিষয়।

বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৮ সালে। সে হিসাবে নির্বাচনের এখনো ঢের বাকি, কম-বেশি দেড় বছর তো বটেই। কিন্তু ইতোমধ্যেই দেশে জোরেসোরে নির্বাচনী হাওয়ায় ঝড়ো গতি পেয়েছে। এই গতিবৃদ্ধি করেছে বিশেষ করে বিএনপি, তাদের যেন আর তর সইছে না। এই দলটি ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরের দিনই আরো একটি জাতীয় নির্বাচনের প্রত্যাশায় প্রহর গুণছিল। দেশে নানাবিধ সমস্যা ছিল, আছে এবং থাকবেও কিন্তু গত প্রায় এক দশক ধরে প্রধান বিরোধী দলের মুখে নির্বাচন ছাড়া জনগুরুত্বপূর্ন কোন দাবি শোনা যায়নি। তাদের একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান আর দাবি একটি নির্বাচন এবং সে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতার মসনদে আরোহন। অবশ্য রাজনৈতিক দলের এমন প্রত্যাশায় দোষের কিছুই নেই। ক্ষমতা কার না পছন্দ? নামসর্বস্ব দলগুলোও ক্ষমতার ভাগ পেতে আজ মরিয়া। ব্যক্তিসর্বস্ব, সাইনবোর্ডসর্বস্ব, এমনকি নিবন্ধন ছাড়া দলগুলোও এখন রাজনীতির মাঠে বেজায় সরব। আহা ক্ষমতা !!

কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলে জোট গঠনের ধারনা বা সংস্কৃতি নতুন তো নয়ই, দোষেরও নয়। পৃথিবীর বহু দেশে জোটের রাজনীতি বিদ্যমান। বাংলাদেশে এমন দু’টি জোট আছে, ১৪ দলীয় জোট এবং ২০ দলীয় জোট। এই দুই জোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি। এদের সাথে জোটবদ্ধ দলগুলোর অধিকাংশই নামসর্বস্ব। এই দুই জোটের বাইরেও আরো অনেক রাজনৈতিক দল আছে এককভাবে কোন পরিচিতি ও প্রয়োজনীয়তা প্রায় শুন্যের কোঠায়। কিন্তু তাতে কি, ভোটের বাস্তবতায় এ দলসমুহ অনেক গুরুত্বপুর্ন। ভোট ও ক্ষমতায় যাবার সমীকরনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এই দলগুলোর ভূমিকা একেবারে ফেলনা নয়। কারন নির্বাচন সামনে রেখে এ দলগুলো যেমন সরব হচ্ছে, তেমনি বড় দলগুলোও এদের কাছে টানতে চাইছে। এ প্রক্রিয়া অলরেডি দৃশ্যমান। কদর বাড়ছে ছোট ছোট দলসমুহের।

জোট বলতে আমরা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট আর বিএনপি’র নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটকেই বুঝি। তবে এর বাইরেও যে জোট গঠনের চেষ্টা হয়নি বা হচ্ছে না তা কিন্তু নয়। এই তো সেদিন জনাব আ স ম রবের বাড়িতে তেমনি একটি জোট গঠনের বৈঠক হয়ে গেল। এখানে যাঁরা মিলিত হয়েছিলেন তাঁরা স্বনাম ধন্য ব্যক্তি। কিন্তু রাজনীতিতে তাদের দলের অবস্থান আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। অনেকে আঞ্চলিক পর্যায়েও নামগোত্রহীন। ভোটের আগে এই নামগোত্রহীন রাজনৈতিক দলের কর্নধর’রা এখন সঙ্গবদ্ধ হতে চাইছে এমন কি আওয়ামী লীগ, বিএনপি’র মতো করে তৃতীয় একটি জোট করতে চাইছে। অবশ্য তৃতীয় জোট করা কতটা সম্ভব সেটি দেখার বিষয় বটে। তবে ছোট দলগুলোর এই নড়াচড়া দেখে এটি আন্দাজ করা যাচ্ছে যে, এই সমস্ত দল নির্বাচন সামনে রেখে দরকষাকষি শুরু করেছে।

আগেই বলেছি জোটের রাজনীতি দোষের কিছু না। নীতি-আদর্শ বজায় রেখে, তৃতীয় কেন চতুর্থ, পঞ্চম জোটও হতে পারে। তবে কেবল মাত্র ব্যক্তিস্বার্থ আর উদরপুর্তির জন্য যেন জোট না হয়। জনগনের চাহিদা ও প্রত্যাশা রাজনীতিকের কাছে মূল্যবান হোক ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে। দেড় বছর পরে সাধারন নির্বাচন, এর মধ্যে অনেক রঙ্গ এই বঙ্গে ঘটবে যা প্রত্যক্ষ করতে হবে দেশবাসীকে। আমি এবং আমরাও দেখবো চলতি ভোটের রাজনীতি, জোটের রাজনীতি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 − 16 =